টেকটিউন ভ্রমণ করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। টেকটিউন এর সাথেই থাকুন।
HomeDigital Marketingসোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে

বর্তমান সময়ে সকল শিল্প জুড়ে, প্রতিটি ব্যবসায়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এখন অডিয়েন্সরা সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে বেশি একটিভ থাকে। আর তাই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলোকে বুঝতে হবে তাদের সম্ভাব্য ক্রেতারা কি চাচ্ছে কোন ট্রেন্ড গুলো ফলো করছে।

 

কখনো কখনো এমন হতে পারে যে আপনার বিজনেসের নির্দিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোর ফলোয়ার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ফলোয়ার বৃদ্ধি পেলেই কি হবে? ফলোয়ার বৃদ্ধি পেলেই সেলস বৃদ্ধি পাবে, এটি একটি ভুল ধারণা। আপনি যদি আপনার ফলোয়ারদের ক্রেতায় রূপান্তর করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভাল স্ট্রেটেজি অবলম্বন করতে হবে।

আপনাকে সব সময় মাথায় রাখতে হবে, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোর ফলোয়াররা আপনার ক্রেতা নয়। তাদেরকে আপনার ক্রেতায় পরিণত করে নিতে হবে। আর সফল কোম্পানি গুলোই এই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে পারে।

আজকের পোস্ট এ আমি আলোচনা করব কিভাবে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া Conversions রেট বাড়াবেন অথবা আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া Post গুলোর Click-Through Rate বৃদ্ধি করবেন। CTR বৃদ্ধি করাই হতে পারে, আপনার ফলোয়ারদের ক্রেতায় রূপান্তর করার প্রথম ধাপ।

চলুন দেখে নেয়া যাক CTR বৃদ্ধির কিছু স্ট্রেটেজি,

১. আপনার মার্কেটিং চ্যানেল বৃদ্ধি করুন

আপনার প্রথম পদক্ষেপ হবে প্রায় সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার উপস্থিতি নিশ্চিত করা৷ জনপ্রিয় সকল সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ডের নামে পেজ, একাউন্ট বা চ্যানেল তৈরি করুন।
অধিকাংশ বিজনেস প্রোফাইলের একাউন্ট ফেসবুকে থাকলেও অন্য সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে থাকে না। এটা করা যাবে না৷ ফেসবুকের পাশাপাশি সকল সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে একাউন্ট রাখতে হবে এবং নিয়মিত Post করতে হবে।
এই কথা সত্য যে, বর্তমান সময়ে ফেসবুকে ইউজাররা বেশি একটিভ থাকে এবং এটি দিন দিন মার্কেটিং এর অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠছে, তাই বলে অন্য প্ল্যাটফর্ম গুলোকে ইগ্নুর করা যাবে না। বিশেষ করে টার্গেট মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে সেরা প্ল্যাটফর্মটা বেছে নিতে হবে।
যেমন ধরুন কোন ইউজার আপনাকে ফেসবুকে ফলো করে কিন্তু সে ফেসবুক ব্যবহার করে শুধুমাত্র ছবি আপলোড দেবার জন্য, আবার কেউ টুইটারে আপনাকে ফলো করে কিন্তু তারা টুইটার ব্যবহার করে শুধু নিউজ আপডেটের জন্য। মোট কথা আপনি আপনার টার্গেট কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকবেন।

২. টার্গেট অডিয়েন্সদের জানুন

সফল সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার হতে হলে আপনাকে আগে টার্গেট মার্কেট আইডেন্টিফাই করতে হবে। আপনাকে রিসার্চ করে বের করতে হবে কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কাস্টমাররা বেশি একটিভ থাকে।
নিচের ছবিটি খেয়াল করুন, কোন বয়সের ইউজাররা বেশি কোন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে দেখে নিন।
যেমন, আপনার টার্গেট কাস্টমারদের বয়স যদি ১৮ থেকে ২৯ বছর হয় তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া হবে ফেসবুকে। কারণ ফেসবুকে এই বয়সের ইউজাররা বেশি একটিভ থাকে। তাই বলে আপনি যদি YouTube, Instagram, এবং Snapchat এ আপনার মার্কেটিং বন্ধ রাখেন তাহলে কিন্তু হবে না। আপনাকে ফেসবুকে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় করতে হবে তবে বাকি প্ল্যাটফর্ম গুলোতেও একটিভ থাকতে হবে।
আবার যদি আপনার টার্গেট কাস্টমারদের বয়স ৬০ বছরের বেশি হয় তাহলে Snapchat এবং Tumblr এ বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
যদি আপনার বিজনেস ফ্যাশন রিলেটেড পণ্যের হয় তাহলে আপনার জন্য সেরা সোশ্যাল মিডিয়া হতে পারে ইন্সটাগ্রাম। ইন্সটাগ্রামে অধিকাংশ মানুষ ছবি শেয়ার করে সুতরাং ফ্যাশন রিলেটেড মার্কেটিং এই প্ল্যাটফর্মের জন্য উপযুক্ত।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ থাকুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে কাস্টমাররা আপনাকে ফলো করা শুরু করলে, আপনার দায়িত্ব হবে তাদের সব সময় আপডেট রাখা। আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যেন তারা আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতন থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ফলোয়ারদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে হবে।
যদি সপ্তাহে একদিন আপনি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল আপডেট করার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে তা পরিবর্তন করুন। ফলোয়ারদের সব সময় নিজেদের সাথে জুড়ে রাখতে প্রতিদিন কিছু কিছু না আপডেট দিন।
কোন কাস্টমার আপনার কোন Post এ কমেন্ট করলে অবশ্যই তাকে যথাযথ উত্তর দিয়ে সাহায্য করুন। যদি কোন কাস্টমার অফার বা ডিসকাউন্ট সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে সরাসরি কমেন্ট সেটার রিপ্লাই দিন। কমেন্ট রিপ্লাই দিলে একই সাথে অনেক গুলো সুবিধা পাওয়া যাবে,
কাস্টমাররা এটিকে সেরা কাস্টমার সার্ভিস হিসেবে গ্রহণ করবে, তারা বুঝতে পারবে আপনি বা আপনার কোম্পানি কাস্টমারদের নিয়ে কতটা সিরিয়াস।
আপনি দ্রুত কমেন্ট বা মেসেজের রিপ্লাই দেবার চেষ্টা করুন এতে করে সেলস বৃদ্ধি পাবে।

৪. অটোমেশন টুল ব্যবহার করা

যেকোনো কোম্পানির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ২৪ ঘণ্টা খেয়াল রাখা সম্ভব না। বড় বড় কোম্পানির ডেডিকেটেড সোশ্যাল মিডিয়া টিম থাকলেও ছোট বিজনেস গুলোর এমন ব্যবস্থা থাকে না। আর তাদের জন্য দরকার অটোমেশন টুলের।
এমন অনেক টুল রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় Post করা যায়। আলাদা ভাবে Post না করে যেকোনো একটি প্ল্যাটফর্মে Post করলেই হয়। এমন একটি অটোমেশন টুল হল Buffer।
Buffer এর মাধ্যমে আপনি একটি প্ল্যাটফর্মে Post করতে পারবেন সেটি চলে যাবে আপনার নির্ধারণ করা সকল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাছাড়া আপনি এই টুলের মাধ্যমে শিডিউল Post এর ব্যবস্থাও করতে পারেন।
আরেকটি অটোমেশন টুল হতে পারে Sprout Social। আপনার সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মেসেজ এক জায়গায় পেতে এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন। বারবার আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্মে না গিয়ে একসাথে সব মেসেজ দেখে নিতে পারেন Sprout Social এর মাধ্যমে।

৫. এক্সক্লুসিভ প্রোমোশন অফার করুন

মার্কেট টার্গেট করা, Post অটোমেশন করার মেথড সিলেক্ট করার পর আপনার কাজ হবে সঠিক কন্টেন্ট তৈরি করা। আপনার কন্টেন্ট কেমন হবে এর উপর কিন্তু আপনার সফলতা নির্ভর করবে।
কখনো স্প্যাম করা যাবে না, প্রতিটি Post এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেন কিছু না কিছু ভ্যালু থাকে। বৃহৎ মার্কেটিং লক্ষ্য অর্জনে আপনাকে বিচার বিবেচনা করে Post করতে হবে।
এমন কিছু Post করা যাবে না, যা দেখে ফলোয়াররা আপনাকে আন-ফলো করে করে দেয়। সব সময় এক্সক্লুসিভ কোন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করতে হবে৷ এমন কিছু দিন যা ইউজাররা আপনার ওয়েবসাইটে পাবে না, এটা হতে পারে কোন Promo কোড, অফার, কুপন ইত্যাদি।
আপনি যখন এমন কিছু দেবেন যা ওয়েবসাইটে থাকবে না তখন ইউজাররা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট গুলোকে গুরুত্ব দেবে।

৬. কন্টেস্টের আয়োজন করুন

অনলাইনে কন্টেস্টের আয়োজন করতে সোশ্যাল মিডিয়া দারুণ অবদান রাখতে পারে। আপনি কন্টেস্টের অংশ হিসেবে ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট এর প্রমোট করতে পারেন।
আপনি যদি ইউজারদের তৈরি করা কন্টেন্ট তাদের প্রোফাইলে Post করাতে পারেন তাহলে, এটি একদিকে যেমন অন্য ইউজারদের উদ্বুদ্ধ করবে অন্যদিকে ব্র্যান্ড পরিচিতও বাড়াবে। এর মাধ্যমে ফলোয়ার বাড়তে পারে যা একসময় সেলস বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
৫৯% মানুষ বলেছে তারা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে ফলো করে কারণ তারা সেই সমস্ত ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগ্রহী। আপনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কন্টেস্টের মাধ্যমে ইউজারদের এনগেজড রাখতে পারেন।
গবেষণা বলছে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ৭৫% এর বেশি কাস্টমার নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয় করে। ৫৭% মানুষ নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয় করে কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্র্যান্ডটিকে ফলো করে।
কন্টেস্টের পুরষ্কার হিসেবে অবশ্যই ভাল কিছু নির্ধারণ করে রাখুন। সব সময় চেষ্টা করুন আকর্ষণীয় কিছু রাখতে। আকর্ষণীয় পুরষ্কার একদিকে যেমন কাস্টমারদের সন্তুষ্ট করবে অন্যদিকে অন্যদেরও আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।

৭. ইনফ্লুয়েন্সারদের সাহায্য নিন

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরও বেশি গ্রাহক পাওয়ার আরেকটি উপায় হ’ল সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে কাজ করা।
এই কৌশলটি আমি আলোচনা করা অন্যান্য পদ্ধতিগুলির থেকে কিছুটা আলাদা। ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে আপনি এমন লোকদের কাস্টমারে রূপান্তর করতে পারেন যারা আপনার ব্র্যান্ডকে ফলো করে না।
ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে অংশীদারি করা একটি সফল কৌশল কারণ তাদের ব্যস্ততা বেশি। ইনফ্লুয়েন্সাররা আপনার বর্তমান হারের চেয়ে ক্রয়, ২২ গুণ বেশি বাড়াতে পারে।
তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার ইউজাররা মনে করে নির্দিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সাররা যথেষ্ট জ্ঞানী এবং তারা যা প্রোমোট করে তা আসলেই সেরা। গবেষণা বলে ৮২% লোকে ইনফ্লুয়েন্সারদের অফার গুলো গ্রহণ করে।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইন্সগ্রামের ক্ষেত্রে। ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণত নিজেদের প্রোফাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে প্রোমোট করে থাকে।
৮. টুইটারে ছবি ব্যবহার করুন
টুইটারের Post এ ছবি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। আমি নিজে দেখেছি ছবি সহ একটি টুইটার Post, ছবি ছাড়া টুইটার Post থেকে ভাল পারফর্ম করে।
টুইটারের ইউজাররা ছবি সহ টুইট গুলোকে বেশি ভালবাসে। যখন কোন টুইটে ছবি থাকে তখন ইউজাররা এর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় এবং ক্লিক করে। সুতরাং টুইটারে আপনার ব্র্যান্ড মেসেজ প্রদানে অবশ্যই ছবি যোগ করার চেষ্টা করুন।

৯. ভাল কন্টেন্ট নির্বাচন করুন

আপনি যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই উপার্জনের চেষ্টা করুন না কেন, এমন তথ্য শেয়ার করবেন না যা আপনার ব্র্যান্ডের ইমেজ নষ্ট করবে। এটা ঠিক যে আপনি কন্টেন্ট শেয়ারে অলসতা দেখালে, আপনার ট্রাফিক কমে যাবে তবে এমন কিছু শেয়ার করা যাবে না যা আপনার ব্র্যান্ডের ক্ষতি করতে পারে।
আপনার কন্টেন্ট দুর্বল মানের হলে ইউজাররা আপনার প্রোফাইলকে ইগ্নুর করা শুরু করবে অন্যদিকে চমৎকার হলে পরবর্তী Post এর জন্য অপেক্ষা করবে।

১০. 80/20 রুল ফলো করুন

আমরা সবাই হয়তো 80/20 রুল সম্পর্কে অবহিত আছি। আপনি সবসময় নিজের কন্টেন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কখনো কখনো অন্য ব্র্যান্ডের বিষয়বস্তুও তুলে ধরতে পারেন।
আপনি সব সময় আপনার বিজনেস রিলেটেড Post না করে মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছুও তুলে ধরতে পারেন। তবে এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে, যে Post গুলো আপনার বিজনেস রিলেটেড না সেগুলো যেন হাই কোয়ালিটি Post হয়।

১১. Post এর শুরুতে লিংক যোগ করুন

যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া Post এ আপনার লিংক গুলো শুরুর দিকে রাখার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে শুরুর দিকে লিংক প্লেস করলে ক্লিক বেশি আসে।
অধিকাংশ কোম্পানি Post এর শেষ দিকে লিংক প্লেস করে অভ্যস্ত হলেও তারা জানে না যে প্রথম দিকে লিংক গুলো একটু বেশি গ্রগনযোগ্যতা পায়। Post এর শুরুর দিকে বলতে আমি প্রথম লাইনেই বলছি না। আপনার Post এ যতগুলো ওয়ার্ড থাকবে সেই হিসেবে খেয়াল করুন নিচের ছবিটির মত পজিশনে লিংকটি যোগ করেছেন কিনা। ছবিটিতে খেয়াল করুন কোন পজিশনে CTR বেশি রয়েছে।

১২. ফেসবুক Post এ অবশ্যই ছবি যোগ করুন

আপনার ব্র্যান্ডের ফেসবুক পেজে কোন post করলে অবশ্যই ছবি দিন। গবেষণা বলে ছবি যুক্ত ফেসবুক Post এ ১০৪% বেশি টিউমেন্ট, ৫৪% বেশি লাইক এবং ৮৪% বেশি CTR আসে। আরও মজার ব্যাপার হল ইমেজে Call To Action যোগ করলে CTR বাড়ে আরও ১৪%।
একই সাথে ইমেজে, Hexadecimal কালার #4c66a4, Grey/White কালার আপনার CTR, ১৬% থেকে ২৮% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
১৩. হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন
হ্যাশট্যাগ যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাশট্যাগ আপনার ট্রাফিক বাড়িয়ে দিতে পারে কয়েকগুণ। সঠিক ভাবে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে ট্রাফিক যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে একই সাথে CTR ও বাড়তে পারে।
তবে ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য হ্যাশট্যাগ ব্যবহারে ভিন্নতা থাকতে পারে। টুইটারে হ্যাশট্যাগ অন্য যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টুইটারের উপযুক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে আগে হ্যাশট্যাগ রিসার্চ করে নিন।

১৪. কম শব্দে কন্টেন্ট তুলে ধরুন

সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য উপযুক্ত কন্টেন্ট তৈরি করতে চেষ্টা করুন কম কথায় মুল বক্তব্য তুলে ধরতে। তবে ভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে লিমিটেশন থাকতে পারে, যেমন টুইটারে আপনি চাইলেও বেশি কিছু লিখতে পারবেন না।
আমি নিজেও দেখেছি ফেসবুকের ক্ষেত্রে কম শব্দের Post এ বেশি ক্লিক আসে। বড় ধরনের প্যারাগ্রাফের চেয়ে ছোট প্যারাগ্রাফ আপনার ক্লিক বাড়িয়ে দিতে পারে।

১৫. শব্দ ব্যবহারে সতর্ক হোন

আপনি কি জানেন নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ড ব্যবহারে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া Post এর লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বেড়ে যেতে পারে? এটা সত্যি। আপনি সঠিক ভাবে কিছু ওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার Post এর রিয়েকশন বাড়াতে পারেন।
টুইটারের টুইটের ক্ষেত্রে আপনি নিচের ২০ টি ওয়ার্ড ব্যবহার বিবেচনা করতে পারেন,
কিছু ওয়ার্ড যেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুকে ব্যবহৃত হয়,

১৬. পরীক্ষা করুন

আমি উপরে যে ১৫ টি স্ট্রেটেজি বলেছি সব গুলোই কার্যকরী, তবে সব ক্ষেত্রে সব গুলো কৌশল আপনাকে সফল করবে এমনটি বলা যায় না। একেক জনের জন্য একেক কৌশল কাজ করতে পারে। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে নিজের কোন কৌশলটি কাজ করে সেটি খুঁজে বের করা।
একেক করে সব গুলো কৌশন অবলম্বন করুন এবং দেখুন কোনটি আপনার CTR বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া গুলো সব সময় পরিবর্তন হতে থাকে সুতরাং আপনাকে দেখতে হবে কোনটি কখন কাজ করে।
শেষ কথাঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ফলোয়ার থাকা দুর্দান্ত। তবে আপনাকে এই ফলোয়ারদের গ্রাহকে রূপান্তর করার উপায়গুলি খুঁজে বের করতে হবে। যতটা সম্ভব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিজের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুন। আপনার টার্গেট অডিয়েন্স সম্পর্কে গবেষণা করুন যাতে আপনি প্রতিটি চ্যানেলে যথাযথভাবে মার্কেটিং করতে পারেন।
নিয়মিতভাবে একটিভ থাকুন। নিশ্চিত হন যে আপনি সর্বদা আপনার ফলোয়ারদের জবাবদিহি করছেন, তাদের জড়িত রাখছেন। আপনার কন্টেন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় করতে অটোমেশন টুল ব্যবহার করুন। ছাড়, কুপন, এবং প্রোমোশন অফার করুন। আপনার ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে পার্টনারশিপ করুন।
আপনার CTR বাড়ানোর উপর ফোকাস করুন। ইমেজ ব্যবহার করুন, আপনার ভাষা খেয়াল করুন, হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। আপনি যদি এই টিপসগুলি ফলো করেন তবে আশা করা যায় আপনার কাছে কেবল মাত্র ফলোয়ারই থাকবে না তারা ক্রেতাতে পরিণত হবে।
4 weeks ago (2:30 PM) 37 views

পোস্টটি শেয়ার করুন

About Author (25)

Administrator

I am always open to questions, comments, and suggestions and will do my best to explain my thoughts and ideas in the clearest and detailed manner possible. Please, don't hesitate to ask if you don't understand something. We have all been there; it is the nature of our field. I, myself, am always looking for new ways to learn and will do my best to share my knowledge with you.

Leave a Reply

Related Posts

Back to top